শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০

গার্মেন্টস নারীর আত্মকথা -শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া (জয়)

গার্মেন্টস নারীর আত্মকথা -শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া (জয়)



আমি এক গার্মেন্টস নারী বলছি??
পরাধীনতার মুখোশ উন্মোচনে বেরিয়েছি
পরম স্বাধীনতার দরজায়,
সম অধিকার লক্ষ্য সমঝোতা
এসেছি শহুরে তবে স্বাধীনতা কোথায়?
আমি গার্মেন্টস নারী শ্রমিক।।

আমি এক গার্মেন্টস নারী বলছি??
নেমেছি মাঠে বাস্তবতায়,
দিন নেই আর রাত নেই
খেটে মরি সুই-সুতায়।
আমি গার্মেন্টস নারী শ্রমিক।

গার্মেন্টস নারী শ্রমিক বলে
হয়'তো-নয়'তো মানুষ,
আধুনিক সমাজ আত্ম-মর্যাদা বিলুপ্তপ্রায়
কি বলে থাকেনা হুশ।
আমি গার্মেন্টস নারী শ্রমিক।।

আমি এক গার্মেন্টস নারী বলছি??
বাঁচিবার তরে
আমি'তো পারতাম পতিতার মত
বিক্রিত-বিকৃত বিছানায় শুয়ে,
নাহ! আমি'তো করি নহে
ঈশ্বর ভয় আছে দেহ জুড়ে।
তবে কেনো তবুও কেনো
আমাকে কুদৃষ্টিতে আখ্যা দিবে।
আমি গার্মেন্টস নারী শ্রমিক।।

তবে এই সমাজ শিক্ষিত সমাজ
ভালো-মন্দ করেছে এক,
কমেছে লাজ ধ্বংসের মুখে সমাজ
সবে মিলে দ্যাখ।
আমি গার্মেন্টস নারী শ্রমিক।।

আমি এক গার্মেন্টস নারী বলছি??
ছাড়িয়াছি বহুদূর গঞ্জ কিংবা মাতৃভূমি
কর্মকে ধর্ম ভেবে,
কাজে-কাজেই যায় যে বেলা
গঞ্জকে ভুলে গেলাম কবে।

কাজ করি দেশ গড়ি
শ্লোগান জপেছি মনে,
নারী'রা বধির-নির্বোধ নহে
সবে অঙ্গীকার পণে।
আমি গার্মেন্টস নারী শ্রমিক।।
বাংলাদেশ -শুভব্রত লাহিড়ী

বাংলাদেশ -শুভব্রত লাহিড়ী



এই তো দেশ বাংলাদেশ
সেই তো আমার মায়ের দেশ
ঘাম ঝরানো দিনের শেষে
রাত্রি ছড়ায় ঘুমের কেশ।

বাংলাদেশ আমার দেশ
মায়ের বোনের ভাইএর দেশ
অমল আলোর কোমল প্রদীপ
বুক ভরে দেয় প্রেম অশেষ।

ধানের দেশ  পানের দেশ
প্রানের এবং গানের দেশ
বিভেদ ভুলে আমরা সবাই
মনের সুখে কাটাই বেশ।

নদ নদী আর ফলের দেশ
স্বচ্ছ শীতল জলের দেশ
মা গো তোমায় প্রণাম জানাই
ঠাঁই পাবে না দ্বন্দ দ্বেষ।

স্বপ্ন মোদির স্বাধীন দেশ
সেই তো আমার মায়ের দেশ
অমল আলোয় কোমল প্রদীপ
বুক ভরে দেয় প্রেম অশেষ।


হে মানব -ফরহাদ হোসেন

হে মানব -ফরহাদ হোসেন

হে মানব আদরে তুমি দিলে মোরে ঠাই
মনের অন্তরে চিহ্ন পোষে রাখিয়া পাই।
মানবের কাছে মনুষ্য কতো দিবে পাড়ি 
একতা দ্বারে কেন রাখিবে মোরে আড়ি।
চিন্তা নিদ্রায় করোনা সজা ব্যাস্ত কাজে
বেঁচে থাকার ভাবনা একি রুটে বাজে।
তুমি মানব আমি মানব কিসে বেদাবেদ
ধর্ম কে রাখিবে মনের অন্তরে সেই হেদ।
মানব তুমি মিলেমিশে থাক সকলে মাঝে
জগৎ ভরে উদ্ভ্রান্ত অশ্রু কেন তবে ভাসে।
হিন্দু মসলিন বৌদ্ধ খ্রিষ্টান থাকি ঐ মিশে
মানব তুমি হৃদয়ে বেদনা আছো শীর্ষে।
মিলেমিশে মানবে ঐক্য ঘিরে আছে প্রাণ
শ্রেষ্ঠ জাতির সুখের কর্ম ধরে ফুলে ঘ্রাণ।
হে মানব জাগো তুমি জাগো মুখে হাসি
দলবে প্রাণে জুড়ে মিলেমিশে আসি।


উপাসনা- এনামুল হক পাইলট

উপাসনা- এনামুল হক পাইলট




আমি যার জন্য ছন্দ হারা বিরহের কবি
সে ছিল মোর আঁধার নয়নের নিত্য রবি।
পড়ে আছে আজ কলমটা
টেবিলের উপর
কষ্টের ভূমিকম্প হৃদয়ে
কাঁপছে তর তর।
হারিয়েছি মোর কবিত্ব সাধনা
অশ্রু মাখা নয়নে তোমার আরাধনা।

যে হাতের পরশে ছন্দে-ছন্দরা গাইতো গান
সে হাতের মৃত্যু হয়েছে, হারিয়েছে প্রাণ।
রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে
জনতার রাজপথে
ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন আহা!
বিরহের আঘাতে।
কবিতার ছন্দ-চরণ সব ছিল তোমার সাধনা
পিপাসীত হৃদয় তোমার আরাধনা।


রচনাকালঃ ২৬/০৯/২০১৯ইং
ভাটিকাশর-বড়বাড়ি, ময়মনসিংহ

ফিরে এসো হে যুবক- শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া (জয়)

ফিরে এসো হে যুবক- শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া (জয়)

ফিরে এসো হে যুবক


ফিরে এসো হে যুবক!
আর কত? খেলবে আত্মার সাথে,
আর কত? জুলুম করবে দেহের সাথে
কখনো কি? সুষ্ঠ মস্তিষ্ক করেছো কি? গভীর চিন্তা,
কখনো কি? ভেবেছো সঠিক ভুল-ভ্রান্ত কোনটা,
     তব এবার ফিরে এসো।

ফিরে এসো হে যুবক!
জানো কি? পাপের শহরে মগ্ন-ব্যস্ত পাপীষ্ঠ,
জানো কি? কত-শত পাপে ভারী হচ্ছে ভূ-পৃষ্ঠ।
বুঝো কি? সকাল-সন্ধ্যা গান বাজনায় মত্ত মোরা,
বুঝো কি? রঙ্গিন তৃষ্ণার জলে নারী দেহ চলে-বলে।
       তব এবার ফিরে এসো।

ফিরে এসো হে যুবক
তবে কি? সুপ্ত রঙ্গিন যৌবন উত্তাল ঢেউয়ে পাহাড় সম গুনাহ,
রবে কি?দীর্ঘস্থায়ী নশ্বর বুকে একবারও চেয়েছি কি? পানাহ।
যাবে কি? অতলে চিন্তা করেছো কি একবারও,
তবে কি? মুক্তি পথ উন্মুক্ত
     তুমি এসো যুবক।

তোমায় ডাকছে হে প্রিয় প্রভু,
ক্ষমা চেয়ে নাও মাপ পাবে তবু।
       তব ফিরে এসো
       তবুও ফিরে এসো হে যুবক।।।